বিশ্ববাজারে এক মাসের ব্যবধানে টনপ্রতি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও দেশীয় আমদানিকারক ও মিল মালিকরা দাম কমানোর ক্ষেত্রে কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছেন না। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের এখনো বাড়তি দামেই নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য কিনতে হচ্ছে।
অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রেডিং সাইটের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশীয় পাম অয়েলের বুকিং দর গত এক মাসে ৫০০-৬০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত কমেছে। চলতি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পাম অয়েলের বুকিং দর রেকর্ড ৪ হাজার ৯০০ রিঙ্গিতে পৌঁছলেও বর্তমানে তা ৪ হাজার ৪৫০ রিঙ্গিতে নেমে এসেছে। একইভাবে বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি পিংক শিট প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অপরিশোধিত পাম অয়েলের আন্তর্জাতিক বুকিং দর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে টনপ্রতি প্রায় ১১৫ ডলার কমেছে। অথচ দেশের পাইকারি বাজারে মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) দাম কমেছে মাত্র ১৫০-২০০ টাকা। যুদ্ধের অজুহাতে একই সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে পাম অয়েলের দাম মণপ্রতি ৮০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।
ভোজ্যতেলের বাজারে দামের এ অসামঞ্জস্য কেবল পাম অয়েলেই সীমাবদ্ধ নয়, সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ করা গেছে। চলতি বছরের শুরুতে অপরিশোধিত সয়াবিনের বুকিং দর গড়ে ১ হাজার ১৫৪ ডলার থাকলেও মার্চে তা ১ হাজার ৪৮২ ডলারে গিয়ে ঠেকে। তবে সর্বশেষ গতকালের তথ্য অনুযায়ী, সয়াবিন তেলের বুকিং দর কমে টনপ্রতি ১ হাজার ১৮১ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারে এ নিম্নমুখী প্রবণতা সত্ত্বেও দেশের বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাড়তি দামে বুকিং করা পণ্য এখনো দেশে পৌঁছেনি, অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার খবর পাওয়ামাত্রই মিল পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছেন আমদানিকারকরা।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা শুরুর আগে পাম অয়েলের দাম ছিল ৫ হাজার ৮৫০ টাকা। যুদ্ধের উত্তাপে তা একলাফে বেড়ে ৬ হাজার ৫৫০ টাকায় পৌঁছায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বুকিং দর রেকর্ড পরিমাণ কমতির দিকে থাকলেও পাইকারি পর্যায়ে তা ৬ হাজার ৩০০ টাকার নিচে নামেনি। অন্যদিকে গতকালও বাজারে প্রতি মণ সয়াবিন তেল ৭ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মূলত বড় মিল মালিকরা সরবরাহ আদেশ (এসও) কার্যকর করতে বিলম্ব করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, এক-দেড় মাস আগে কম দামে আমদানি করা তেল এখনো বাজারে মজুদ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধের দোহাই দিয়ে আমদানিকারকরা বাড়তি মুনাফা করছেন। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম অয়েল নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ৩০-৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত ১৯৫ টাকায় বিক্রি হলেও খোলা সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি ২১০-২২০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মওলা বণিক বার্তাকে বলেন, বিশ্ববাজারে দাম সামান্য বাড়লেই দেশের বাজারে তার বড় প্রভাব পড়ে। অথচ দাম কমলে সে সুবিধা ভোক্তারা পান না। যুদ্ধকে পুঁজি করে অঘোষিতভাবে দাম বাড়ানো হলেও সরকার আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছে সাধারণ ভোক্তাসহ নিম্ন আয়ের মানুষ।